GuidePedia

0
বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবণতি হয়েছে, নতুন করে সারিয়াকান্দি, ধুনট ও গাবতলী উপজেলার ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। যমুনার পানি ১১ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় রবিবার সকালে জেলা প্রশাসন জরুরি বৈঠক করেছে।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের উপস্থিতিতে জেলার কৃষি, শিক্ষা, প্রকৌশল, প্রাণী সম্পদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভায় যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে বগুড়ায় যমুনা নদীর বিপজ্জনক পয়েন্ট সারিয়াকান্দিতে স্বরণকালের সবচেয়ে বড় ভাঙ্গন হয়েছে রৌহদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। শুক্রবার রাতে ভেঙ্গে যাওয়া অংশটি গেল দুদিনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ হয়েছে।  রবিবারও ভাঙ্ন অব্যাহত ছিল। নদী তীরের বিশাল ওই এলাকা দিয়ে তীরের দুশ’রও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এরিমধ্যে। শুধু সারিয়াকান্দি নয় , ধুুনট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি প্রবেশ করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে ।
  ভেসে থাকা সড়ক, বাঁধ, স্কুল, মাদ্রাসা ও খেলার মাঠে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ। রান্নার জন্য শুকনো জায়গা না থাকায় শুকনো  খাবারের জন্য হাহাকার চলছে এসব বানভাসী, নদীভাঙ্গা মানুষের এসব আশ্রয় কেন্দ্রে। প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চিড়া-গুড় বিতরণ করেছেন, তবে তা একেবারেই অপ্রতুল। যমুনা তীরের রহদহ, শেখপাড়া এলাকা দিয়ে ভাঙ্গ
ন আরও বাড়ছে। বাড়ছে তীরের গ্রামগুলোর জলাবদ্ধতাও।

রোববার বগুড়া জেলা প্রশাসনের বন্যার প্রাত্যহিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সারিয়াকান্দি উপজেলার ১০২টি গ্রাম, ধুনটের ৩২টি ও সোনাতলা উপজেলার ২৬টি গ্রামসহ মোট ১৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া গাবতলী উপজেলার নশিপুর, নেপালতলী ও দুর্গাহাটা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় ৩২টি মেডিক্যাল টিম কাজ শুরু করেছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধের যেস্থানে ৩০০ মিটার ভেঙে গিয়েছিলো সেখানে শুক্রবার ১০০ মিটার ভাঙার পর শনিবার নতুন করে আরও ১০০ মিটার ভেঙে ৫০০ মিটার এলাকা দিয়ে ভাটির দিকে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। ফলে বাঙ্গন টেকছেনা ।  পানি কমার আগ পর্যন্ত সেখানে বাঁধ নির্মাণ বা ভিন্ন কোন কাজ করা সম্ভব হবে না।

বাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করা দুর্গত মানুষের জন্য সরকারি ভাবে যে ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। রবিবার জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় নতুন করে ৫০ হাজার করে টাকা ও ২০ মেট্রিকটন করে চাল এবং সোনাতলায় ২৫ হাজার টাকা ও ১০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
এ নিয়ে বন্যা দুর্গত তিন উপজেলায় মোট সাড়ে ৪লাখ টাকা ও ২২৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ করা হয়। যা দুর্গত ৬২ হাজার ৪৮৩ পরিবারের জন্য অপ্রতুল।

Post a Comment

 
Top