GuidePedia

0
চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান উপস্থাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি চ্যানেল আইয়ের ‘কাফেলা’ ও ‘শান্তির পথে’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সুপ্রিমকোর্ট জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। তিনি মাইটিভিতে ‘সত্যের সন্ধানে’ নামের একটি অনুষ্ঠানেরও উপস্থাপনা করতেন।  রাজধানীর ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজারে বুধবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি পূর্ব রাজাবাজারের ১৭৪ নম্বরের তৃতীয় তলায় সপরিবারে বাস করতেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে তার বাসায় দুজন যুবক আসেন। এর আগে সোমবার (২৫ আগস্ট) তারা হজে যাওয়ার কথা বলে তার পরামর্শ নিতে বাসায় আসেন। এরপর মঙ্গলবারও তারা আসেন। কিন্তু মাওলানা নূরুল ইসলাম
ফারুকী বাড়ি ছিলেন না বলে দেখা হয়নি।


বুধবার সন্ধ্যায় আবার তারা এসে মাওলানা ফারুকীর সঙ্গে কথা বলেন। এক পর্যায়ে তারা বলেন, ‘যিনি হজে যাবেন তিনি এসে আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।’ এ কথা বলে তারা মাওলানা ফারুকীর বাসায় অপেক্ষা করতে থাকেন। এরপর হঠাৎ বাসার মধ্যে ছয়-সাতজনের একটি দল ঢুকে পড়ে। তারা মাওলানা ফারুকীর মাথায় অস্ত্র ধরে এবং তার পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে অন্য ঘরে বন্দি করে ফেলে। ফারুকীর এক ভাতিজা সেখানে উপস্থিত থাকায় তার চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর তারা ফারুকীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।



তারা আরো বলে যে, ‘টেলিভিশনে কাজ করে অনেক টাকা আয় করেন। আমাদের ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে।’ এরপর তারা তাকে গালিগালাজ করে এবং গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মাওলানা ফারুকী জঙ্গি রোষানলে পড়েছিলেন। বেশ কিছুদিন থেকেই এলাকায় তারা বাসার আশপাশে অচেনা লোকদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছিল। এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, র‌্যাবসহ গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত আছেন। তারা আলামত সংগ্রহ করছেন। সেখানে কোনো সংবাদকর্মীকে আপাতত ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তেজগাঁও বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, ঘটনার আলামত দেখে মনে হচ্ছে এ কাজ সাধারণ চোর বা ডাকাতের নয়। তবে এতে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তদন্ত শেষ না হলে সে ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।



স্বারষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন ।’ এদিকে মাওলানা ফারুকী হত্যার খবরে রাতে পূর্ব রাজাবাজারে তার বাসার কাছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এক দল কর্মী বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন ফারুকী এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীতে বিক্ষোভ এবং মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসলামী ফ্রন্টের কর্মীরা বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাংচুর করেছে।মাওলানা ফারুকী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াজ মাহফিল করতেন। তিনি পৃথিবীর অনেক দেশে ঘুরেছেন। সৌদি আরব, শ্রীলংকা, আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ইরাক, কাতার, পাকিস্তান ও ভারত সফর করে ইসলামি জ্ঞান অর্জন করেছেন।

Post a Comment

 
Top